1. [email protected] : amicritas :
  2. [email protected] : newsdhaka :
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০১:২২ অপরাহ্ন

বাসে যাত্রী বেশি ভাড়াও দ্বিগুণ

নিউজ ঢাকা ডেস্ক
  • শেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১ এপ্রিল, ২০২১

‘গন্তব্যে যাওয়ার নিশ্চয়তা পাই নাই। ভাড়াও বেশি দিলাম। কার কাছে জবাব চাইব’ বলে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন রাজধানীর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অফিসগামী এক গণপরিবহন যাত্রী। গতকাল বুধবার সকালে অফিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে নিজের ভোগান্তির কথা এভাবেই প্রকাশ করেন তিনি। শুধু তিনিই নন, গতকাল নগরজুড়েই এ রকম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে গণপরিবহন যাত্রীদের। শুধুই তাই নয়, এক দিন আগেই বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গণপরিবহন শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।

দেশে সাধারণ ছুটি বা লকডাউন ছিল না। অফিস-আদালতে অর্ধেক জনবল দিয়ে পরিচালনার কথা থাকলেও কার্যত তা হয়নি। অপরদিকে গণপরিবহনে বর্ধিত ভাড়ায় অর্ধেক যাত্রী বহন শুরু হয়েছে। সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, অর্ধেক সিট খালি থাকলেও খোলা হয়নি বাসের দরজা। এতে অফিসগামী বিপুলসংখ্যক মানুষ বিপাকে পড়েছেন। যানবাহন না পেয়ে রিকশা বা বিকল্প বাহনে যেতে হচ্ছে গন্তব্যে। অনেকেই হেঁটে পৌঁছে যান গন্তব্যে। এই সুযোগে দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া হাঁকছে যানবাহনগুলো। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তাদের ভোগান্তির বিষয়ে আলোচনায় মেতেছেন। কোনো কোনো গণপরিবহনে খোদ যাত্রীরাই বাগ্বিত-ায় জড়িয়ে পড়েছেন মাস্ক না পরার কারণে। স্বাস্থ্যবিধির নামে বাসে যাত্রী সীমাবদ্ধ করায় ক্ষুব্ধ হন সাধারণ যাত্রীরা। বাসের সংখ্যা ও আসন সীমিত হওয়ায় অনেকেই বিভিন্ন গন্তব্যস্থলে যেতে পারেননি বা বিলম্বে যেতে হয়েছে। এর প্রতিবাদে বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর নিকুঞ্জের এয়ারপোর্ট রোড অবরোধ করেন ভুক্তভোগীরা। কিছুক্ষণ পর অবশ্য সড়ক ছেড়ে দেন তারা। খিলক্ষেত এলাকায় এ সময় যানজটের সৃষ্টি হয়।

চলতি বছরের মার্চ থেকে আবার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে গত সোমবার প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবং ধারণক্ষমতার অর্ধেকের বেশি যাত্রী পরিবহন না করার নির্দেশনা রয়েছে। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আপাতত দুই সপ্তাহের জন্য গণপরিবহনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহন করতে হবে।

এদিকে সরকার ও বাস পরিবহন মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত মানেনি বিআরটিসি। রাজধানীতে চলাচল করা অধিকাংশ বিআরটিসি বাসে ৮০ শতাংশ কিংবা তার বেশি যাত্রী নিতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ বলেছেন, অফিসগামী যাত্রীরা পরিবহন না পেয়ে আজিমপুর, যাত্রাবাড়ী এলাকায় বাস ভাঙচুর করেছে। অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেটরা এ বিষয়ে দেখবেন। এক দিনেই স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে চলা সম্ভব কি না বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দেশে মানুষের যাতায়াত সীমিত না করে অর্থাৎ লকডাউন কিংবা সাধারণ ছুটি না ঘোষণা দিয়ে এ রকম একটা সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, অগ্রহণযোগ্য ও গণবিরোধী।

সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাস স্টপেজ মহাখালী, তিব্বত, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, কলাবাগান, মোহাম্মদপুর, সদরঘাট, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ গণপরিবহনে সবাই মাস্ক পরিহিত অবস্থায় ছিলেন। যেসব বাস ‘সিটিং’ নামে চলে, সেসব বাস ৬০ শতাংশ বর্ধিত ভাড়াও নিয়েও কিছু সময়ে তারা অধিক যাত্রী বহন করেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি সংস্থার বাস যেগুলো স্টাফ বাস হিসেবে পরিচিত, তারাও অধিক যাত্রী নিয়ে চলাচল করেছে। তবে বেশিরভাগ বাসেই উপেক্ষিত ছিল স্বাস্থ্যবিধি। কোথাও জীবাণুনাশক স্প্রে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। বরং বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দুর্ভোগে যাত্রীরা, উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি : শিয়া মসজিদ টু বনশ্রী রুটে চলাচলকারী আলিফ পরিবহনের যাত্রী স্কুল শিক্ষিকা লায়লা আনজুমান সকাল ১০টায় বলেন, রাস্তায় প্রচুর জ্যাম। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে তারপর বাস পেলাম। ভাড়া বেশি নিচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই নেই। কোনো জীবাণুনাশক নেই। ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি অযৌক্তিক বলে মনে করেন এই যাত্রী। এই ভাড়া পুনর্ম্ল্যূায়ন করার দাবিও তোলেন তিনি।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত গাড়িচালক মকবুল হোসেন বলেন, ‘বাস পেতে প্রচুর ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে। এই ভাড়া বৃদ্ধি যৌক্তিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রতিদিন নাবিস্কো থেকে পল্টন যেতে হয় ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফাকে। নাবিস্কো থেকে পল্টন পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ে ভাড়া ২০ টাকা। কিন্তু গতকাল দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করায় বাস না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই সাতরাস্তা পর্যন্ত হেঁটে গিয়ে বাসে ওঠেন তিনি। এ ছাড়া বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, জীবাণুনাশক স্প্রের কোনো ব্যবহার দেখা যায়নি বলে অভিযোগ তার।

এসব বিষয়ে কথা হয় বেসরকারি বাস আলিফ পরিবহনের লাইনম্যান মজনুর সঙ্গে। তিনি বলেন, যাত্রীরা মাস্ক ছাড়া উঠছে না। ৪৫ সিটের গাড়িতে ২২ জনের বেশি যাত্রী নেওয়া হচ্ছে না। ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা এবং ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ৬০ শতাংশ নয়, ৫০ শতাংশ ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে। মহাখালী বাস স্টপেজে বেশ কয়েকটি বাসে উঠে দেখা গেছে, তেমন কোনো জীবাণুনাশক বা স্প্রের ব্যবস্থা নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবহন শ্রমিকরা বলেন, যাত্রীরা বলে তাদের কাছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে তাই তারা আমাদের এগুলো ব্যবহার করে না। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ কোনো পরিবহন শ্রমিক স্বীকার করেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী বলেন, সকাল ১০টায় ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারে বাসের জন্য ৪০ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিলেন। কোনো বাস না পেয়ে উল্টোপথে হেঁটে চিটাগাং রোডে গিয়ে আরও ৪০ মিনিটের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পরে দূরপাল্লার এক বাসে উঠে ২৫ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা দিয়ে অনেকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আসতে হয়েছে।

যাত্রাবাড়ীর আরেক বাসিন্দা রাকিবুল হাসান বলেন, ভাড়া বৃদ্ধি আজ থেকে কার্যকর হলেও গতকালই তার কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিয়েছে। অনেক বাসই সরকার নির্ধারিত নিয়মে ৫০ শতাংশ আসন খালি না রেখে অধিক যাত্রী নিয়ে চলাচল করেছে। কোন বাস জানতে চাইলে তিনি বলেন, তুরাগ পরিবহন, সালসাবিল, অনাবিল, গাবতলী রুটে চলাচলকারী ৮ নম্বর বাস।

কথা হয় মিরপুরের ১৩ নম্বর এলাকার ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলামের সঙ্গে। ট্রাস্ট পরিবহনের বাসে মিরপুর থেকে শাহবাগ পর্যন্ত স্বাভাবিক সময়ের ভাড়া ২৫ টাকা। কিন্তু তাকে আজ দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র গোলাম কবীর সম্রাট বলেন, ৫০ শতাংশ আসন খালি ছিল। তবে স্বাস্থ্যবিধি বলে তেমন কিছু ছিল না। এ ছাড়া ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, এটা ৩০ শতাংশ বা এর কম হলে ভালো হয়। পরিবহন মালিকরা তো এক বছর ধরে ব্যবসা করে আসছে। তারা চাইলে এইটুকু ভর্তুকি দিতেই পারে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রের তদারকি দরকার। এ ছাড়া করোনার কারণে জনগণ কেন বাড়তি ভাড়া দেবে?

সাভার পরিহনের হেলপার মো. সজীব বলেন, সাভার থেকে সদরঘাট আসলে আগে চার হাজারের মতো টাকা থাকত। এখন ১ হাজার ৬০০ টাকা হয়। এই ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়ায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখন আগের মতো করে যাত্রী নিতে পারছি না। বাস মালিক আর রোড খরচ দিয়ে কতই বা থাকবে বলে আক্ষেপ করেন এই হেলপার।

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেছে বিআরটিসি:
রাজধানীর অন্য বাসগুলো অনেকটা নিয়ম মানার চেষ্টা করলে ও সরকার ও বাস পরিবহন মালিক সমিতির সিদ্ধান্ত মানেনি বিআরটিসি। রাজধানীতে চলাচল করা অধিকাংশ বিআরটিসি বাসে অর্ধেকের বেশি প্রায়ই ৮০ শতাংশ কিংবা তার বেশি যাত্রী নিতে দেখা গেছে। সকাল ১০টায় রাজধানীর মহাখালীতে মোহাম্মদপুরগামী বিআরটিসি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১১-৫৮০২) ৮০ শতাংশের বেশি যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাসের সহযোগী বলেন, ‘কই ঠিকই তো আছে।’

একই চিত্র দেখা যায় বিকাল ৪টার দিকে শাহবাগ থেকে মিরপুরগামী একটি বিআরটিসি বাসে। তবে এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি সেই বাসের সহযোগী। বেলা ৩টার দিকে মতিঝিল থেকে গাজীপুরগামী বিআরটিসির নিচে ৫০ শতাংশ যাত্রী ঠিক থাকলেও ওপরে পুরো আসনজুড়েই যাত্রীর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে ছিল অনেকেই।

হিউম্যান হলারে সিটও কমেনি, ভাড়াও বাড়েনি : পুরান ঢাকার সদরঘাট বাসস্ট্যান্ডে থেকে যাত্রাবাড়ী যাওয়া হিউম্যান হলারগুলো আগের মতোই যাত্রী বহন করছে। করোনার সংক্রমণের মধ্যেও গাদাগাদি করে যাতায়াত করছেন যাত্রীরা। একাধিক যাত্রী অভিযোগ করেন, গণপরিবহন নিয়ে সরকারের যে নির্দেশনা দেওয়া আছে, এই গাড়িগুলো সেই নির্দেশনা মানছে না। ফলে আগের মতোই বাধ্য হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে তাদের।

এসব বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক বলেন, জনগণের যাতায়াত সীমিত হয়নি। দেশে লকডাউন, সাধারণ ছুটি কিছুই নেই। জনগণের যাতায়াত আগের মতোই আছে। তার মধ্যেই যদি অর্ধেক যাত্রীর কথা বলা হয় তা অবাস্তব, অগ্রহণযোগ্য ও গণবিরোধী সিদ্ধান্ত। জনগণকে বাদুড়ঝোলা হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। বর্ধিত ভাড়া ছাড়া আর কোনো নির্দেশনা গণপরিবহনে মানা হচ্ছে না।

স্বাস্থ্যবিধিরি বালাই নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, লকডাউন যদি না হয়, তাহলে এগুলো কোনোভাবে মানা সম্ভব নয়। দূরপাল্লার ৬০ শতাংশ বাসে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতি ও শুক্রবার দূরপাল্লার বাসে নির্দেশনা মানতে পারবে না বলে মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্র্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) সরওয়ার আলম বলেন, বেশ কিছু বাস নির্দেশনা মেনে চললেও বিআরটিসির বাস অমান্য করছে বলে ম্যাজিস্ট্রেটরা জানিয়েছেন। সূত্র: দেশ রূপান্তর

অনুগ্রহ করে পোস্টটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটেগরির অন্যান্য পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *