1. md.sabbir073@gmail.com : amicritas :
  2. newsdhaka@newsdhaka.com : newsdhaka :
শুক্রবার, ২৯ অক্টোবর ২০২১, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

এক চক্রে ১৫০ ছিনতাইকারী

ইমন রহমান
  • শেষ আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১

ভোরে অন্যান্য কর্মজীবীর মতো রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে দেড় শতাধিক সদস্য। প্রতি গ্রুপে থাকে পাঁচ-ছয়জন। সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা দাপিয়ে বেড়ায় তারা। ‘চার্ট’ নামে ছিনতাইকারী এই গ্রুপের প্রধানকে ‘মাস্টার’ ও সদস্যদের বলা হয় ‘ম্যান’।

উত্তর-দক্ষিণ রাজধানীকে দুটি জোনে ভাগ করে গুরুত্বপূর্ণ স্থান, বিশেষ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে এমন এলাকায় এই চক্রের সদস্যরা সক্রিয় থাকে। রিকশায় চলাচলকারী ব্যক্তির পকেটের ভাঁজ দেখে তারা ছিনতাইয়ের টার্গেট নির্ধারণ করে। প্রথমে চক্রের যে সদস্য রিকশা থামিয়ে আলাপ শুরু করে, ছিনতাইয়ের পর তাকে ২০ শতাংশ দেওয়া হয়, যেটি তাদের ভাষায় ‘গুডলাক’ কমিশন। বাকি টাকা গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করা হয়।

সম্প্রতি কয়েকটি ছিনতাই ঘটনার মামলা তদন্তে নেমে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ চক্রের ৩০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির বংশাল থানা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, রাজধানীতে একটি ছিনতাইকারী দলেই অন্তত ১৫০ সদস্যের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীর বেইলি রোডের ক্যাপিটাল সিরাজ সেন্টারের টাচ অ্যান্ড টেক কসমেটিকস দোকানের সেলসম্যান মো. মানিক গত বছর ২৯ অক্টোবর সকালে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের শান্তিনগর শাখা থেকে ১ লাখ টাকা তুলে রিকশায় চকবাজার যাচ্ছিলেন। পথে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে বংশাল থানা এলাকায় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সব টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে তিনি বংশাল থানায় মামলা করেন। মামলার এজাহারে মানিক উল্লেখ করেন, দোকানের মালামাল কেনার জন্য ব্যাংক থেকে টাকা তুলে রিকশায় রওনা দিই। রিকশা প্রেস ক্লাব মোড়ে আসামাত্র আরেক রিকশাওয়ালা ব্যারিকেড দেয়। এ সময় অপরিচিত একজন সালাম দিয়ে তার নাম তুষার কি না জানতে চায়। মানিক না বলার ফাঁকে ওই রিকশা তার রিকশার আগে আগে চলতে থাকে। নাজিরাবাজারে আনোয়ারা বেগম মুসলিম গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ফটকের সামনে এসে মানিককে বহনকারী রিকশার চেইন পড়ে যায়। রিকশা থামার সঙ্গে সঙ্গে তিন-চারজন ঘিরে ধরে অস্ত্রের মুখে তার ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। মানিকের ধারণা, তিনি যে রিকশায় ওঠেন, সেও এই চক্রের সদস্য।

গত ৯ নভেম্বর সকালে আলতাফ হোসেন নামে এক আইনজীবীর সঙ্গে নর্থ সাউথ রোডে একই ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা তার রিকশা আটকে হাসিমুখে সালাম দিয়ে ‘জানের মায়া থাকলে পকেটে যা আছে’ বের করে দিতে বলে। আলতাফ পকেট থেকে ১ লাখ টাকার বান্ডিল বের করে দেন। বাকি ১ লাখ টাকা নিয়ে রিকশা থেকে লাফ দিয়ে দৌড়ে রক্ষা পান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নিউ মার্কেট, ধানমণ্ডি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, চাঁনখারপুল, রামপুরা, উত্তরা সড়কে সকাল ও সন্ধ্যায় এই ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা সশস্ত্র অবস্থায় বেশি সরব থাকে।

পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ছয় মাসে গ্রেপ্তার ৩০ ছিনতাইকারীর মধ্যে বোরহান শেখ, বিল্লাল হোসেন ও পলাশ সবচেয়ে ভয়ংকর। তাদের নেতৃত্বে রাজধানীতে বেশি ছিনতাই হয়েছে। টার্গেট থেকে শুরু করে অভিযান সফলের জন্য তারা ‘গুডলাক’ কমিশন বেশি পেয়েছে। ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে তারা ছিনতাই করে। চক্রে বেশ কয়েকজন রিকশাচালকও রয়েছে। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত বেশকিছু রিকশা জব্দ করেছে পুলিশ।

ডিএমপির বংশাল থানায় করা বেশিরভাগ ছিনতাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রাশিদুল হাসান বলেন, ‘৩০ ছিনতাইকারীকে চিহ্নিত করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের চক্রে নারীসহ অন্তত ১৫০ ছিনতাইকারী রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ছিনতাই করে আসছে তারা।’

বংশাল থানার ওসি মো. শাহীন ফকির বলেন, ‘আমরা ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার ও মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেক ভুক্তভোগী মামলার পর আর যোগাযোগ করেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশকে সহায়তা না করলে আসামি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এজন্য মামলা করার পর যোগাযোগ করা হলে ভুক্তভোগীকে সাড়া দেওয়ার জন্য আমরা অনুরোধ করছি।’ সূত্র: দেশ রূপান্তর

অনুগ্রহ করে পোস্টটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটেগরির অন্যান্য পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *